+8801708 543 443
খেজুর শুধু রমজান মাসে ইফতারের জন্য নয়, বরং এটি সারা বছরই এক শক্তির উৎস। খেজুরে রয়েছে প্রচুর গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সহায়তা করে।
আরব দেশগুলোতে একে “প্রাকৃতিক মাল্টিভিটামিন” বলা হয়, কারণ এতে প্রায় ১৫টিরও বেশি পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
প্রতিদিন ২–৩টি খেজুর খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি। ১০০ গ্রাম খেজুরে থাকে —
এই উপাদানগুলো শরীরের শক্তি, রক্তস্বাস্থ্য এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
খেজুরে প্রচুর আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে নারীদের জন্য খেজুর অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ) শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। এজন্য খেলাধুলার পর বা ক্লান্তির সময় ২-৩টি খেজুর খেলে শক্তি ফিরে আসে।
ইফতারের সময় খেজুর খেলে শরীরে দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং শক্তি দ্রুত ফিরে আসে।
খেজুরে থাকা ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
প্রতিদিন সকালে পানিতে ভিজানো ২টি খেজুর খেলে অন্ত্রের চলাচল (bowel movement) ঠিক থাকে এবং পেট পরিষ্কার হয়।
খেজুরে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে “খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)” কমে এবং “ভাল কোলেস্টেরল (HDL)” বাড়ে।
খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল মস্তিষ্কের কোষকে সক্রিয় রাখে। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও মানসিক পরিশ্রমী ব্যক্তিদের জন্য এটি খুব উপকারী খাবার।
খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয়।
এগুলো ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য খেজুর অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি গর্ভকালীন সময়ে শক্তি জোগায় এবং প্রসব সহজ করে।
এছাড়াও খেজুরের পুষ্টিগুণ শিশুর বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
খেজুরে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় মজবুত রাখে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া যেতে পারে।
খেজুরে থাকা ট্রিপটোফ্যান ও মেলাটোনিন হরমোন ঘুমের মান উন্নত করে।
রাতে ঘুমানোর আগে একটি গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে ২টি খেজুর খেলে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং ঘুম ভালো হয়।
যদিও খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি আছে, তবে এর ফাইবার শরীরকে দীর্ঘসময় তৃপ্ত রাখে।
ফলে অযথা বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি।
খেজুরের উপকারিতা অসংখ্য — এটি একদিকে শক্তির উৎস, অন্যদিকে প্রাকৃতিক ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার।
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে খেজুর রাখলে শরীর ও মন দুটোই থাকবে সুস্থ ও সক্রিয়।